আপনি কি একজন ভালো হোমিওপ্যাথি ডাক্তার হতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে তিনটি বিষয়ে প্রচুর প্রচুর জ্ঞান অর্জন করতে হবে > বিষয় তিনটি হল –
( ক ) দর্শন ( খ ) শ্রবণ ( গ ) স্পর্শন
( ক ) দর্শন – আমি এখানে দর্শন বলতে যা বুঝাতে চাচ্ছি তাহল > যেমন – অ্যাব্রোটেনামের > শিশুর শীর্ণ দেহ, মাথা সোজা করিয়া রাখিতে পারে না, দেহের চর্ম লাল ও শিথিল, শুকাইয়া যাওয়া প্রথম পদদ্বয় হইতেই আরম্ভ হয় ।
অ্যাগারিকাস মাস্কেরিয়াস> অঙ্গ প্রত্যঙ্গের নর্তন,স্পন্দন বা আক্ষেপ ।
অ্যারাম ট্রিফাইলাম> নাক, মুখ বা ঠোঁট খুঁটিতে থাকা ।
অ্যান্টিমনিয়াম টাটারিকাম> নিদারুন দুর্বলতা বা নিদ্রালুতা, মুখমণ্ডল নীলাভ ।
ক্যাল্কেরিয়া কার্ব> রোগী দেখতে মোটা ।
সালফারের রোগী > কুব্জ, কৃশ, দ্রুতগতিশীল ।
সাইলিসিয়া> শিশুর পেটটি মোটা ও শক্ত, পা সরু ।
সিপিয়া> রোগিণী সাধারণ স্ত্রীলোকেরা যেমন নিতম্বশালিনী হন, সিপিয়া মোটেই সেরূপ নহে; লম্বা পাতলা, একহারা চেহারা এবং নিতম্ব এত অপ্রশস্ত যে পিছন দিক হইতে লক্ষ করিলে অনেকটা পুরুষের মত দেখায় পেট বড় হয় ।
কুপ্রম মেটালিকাম> তড়কায় - মুখ নীলবর্ণ হয়, অল্পক্ষণস্থায়ী আক্ষেপ – হাতের পায়ের আঙ্গুল হইতে খেঁচুনি আরম্ব হইয়া সমস্ত শরীরে বিস্তৃত হয়, আক্ষেপ কালে বুড়ো আঙ্গুল হাতের মুঠার ভিতরে রাখে ।
এন্টিমোনিয়ম ক্রুড> স্থুলদেহ, ছেলেরা অত্যন্ত খুঁৎখুঁতেও রাগী, কেহ তাহার দিকে তাকাইলে বা গায়ে হাত দিলে আরও রাগিয়া যায়, জিহ্বায় সাদা লেপ, যেন দুধ মাখান ।
এপিস মেল> রোগীর চক্ষুর নিম্নের পাতা থলির মত ফোলা ।
কেলিকার্ব> রোগীর চক্ষুর উপর পাতা ফোলা ।
সিকুটা ভিরোসা> আক্ষেপ, ঊর্ধ্বাঙ্গে সুত্রপাত ।
ফেরাম মেটালিকাম> রক্তহীনতাজনিত ফ্যাকাসে চেহারা ।
জেলসিমিয়াম> তন্দ্রাচ্ছন্নতা ।
হাইওসিয়েমাস নাইজার> তন্দ্রাচ্ছন্ন প্রলাপ, গুহ্যস্থানের কাপড় খুলিয়া ফেলে ও অনবরত লিঙ্গে হাত দেয় । ওপিয়াম> অর্ধনিমীলিত চক্ষু ও নিন্দ্রালুতা ।
ফসফরাস> তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, লম্বা, পাতলা একহারা চেহারা ।
নিকোলাম-মেট> রোগী কাশির ধমকে মাথাটি ধরিয়া বসিয়া থাকে ।
সিনা> কাশিতে কাশিতে ছেলে শক্ত হয় । অ্যালিয়াম সেপা> কাশিবার সময় গলা বা বুকে হাত দিয়া চাপিয়া ধরে ।
জিস্কাম মেটালিকাম> পদদ্বয়ের অস্থিরতা বা পদসঞ্চালন ।
এইরূপ প্রতিটি ঔষধের লক্ষণ সমূহ যাহা রোগীর প্রতি দৃষ্টি পরলেই দেখা যায় তাহা ভাল করিয়া অবগত থাকিতে হইবে ।
( খ ) শ্রবণ – আপনাকে অন্তর দৃষ্টি দিয়ে শুনতে হবে, রোগীর রোগটি কতদিন যাবত তাহাকে যন্ত্রণা দিচ্ছে । এই যন্ত্রণা কখন বা কিসে বারে বা কমে । তার খাবারের ইচ্ছা অনিচ্ছা, পানি পিপাসা কেমন, ঘুম কেমন হয়, অতিতে কোন প্রকার মানসিক আঘাত পেয়েছে কিনা । বংশগত ইতিহাস, ছোট বেলা হইতে কোন কোন রোগ বেশী হত । কোন প্রকার নেশা করার অভ্যাস আছে কিনা । অতিতে কোন প্রকার চর্মরোগ চাপা পরেছে কিনা, মল মুত্র কেমন হয় , মল মুত্রের কোন প্রকার দুর্গন্ধ আছে কিনা । টক, মিষ্টি, ঝাল কোন খাবার বেশী পছন্দ । অতিতে গনোরিয়া বা সিফলিস নিজের বা বংশের কারো ছিল কিনা । পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রোগ বা রোগের রূপান্তর । প্রস্রাব কমিয়া আসিবার সঙ্গে সঙ্গে শোথ দেখা দেয় কিনা । বেদনার ধরন কেমন । শরীরের আনুভুতি গরম না ঠাণ্ডা । আহারের পর বৃদ্ধি বা উপশম হয় কি । রোগ বৃদ্ধির সময় । মলত্যাগ হইয়া গেলে পেট ব্যথার উপশম । মলত্যাগ কালে অতিরিক্ত বায়ু নিঃসরণ আছে কিনা । শিশু ক্রমাগত স্তন্যপান করিতে চায় কি না । সর্ব সময় একজন সঙ্গী চায় কিনা । শিশুর দাঁত ঠিক সময়ে উঠেছিল না বিলম্বে । শিশু সঠিক সময় হাঁটা শিখেছিল না বিলম্বে । ইত্যাদি ইত্যাদি মনযোগ সহকারে শুনিয়া একটি সঠিক রোগ চিত্র অঙ্কন করতে হবে, তবেই আপনি ভেষজ ভাণ্ডার হইতে সদৃস্য বিধান মতে রোগীর জন্য একটি সদৃস্যতম ঔষধ নির্বাচন করিতে পারা যাইবে বলিয়া আমার বিশ্বাস নচেৎ কোন ক্রমেই সদৃস্য ঔষধ নির্বাচন করা সম্ভব নয় ।
( গ ) স্পর্শন – নারী পরীক্ষা , বুক পরীক্ষা, জিহ্বা পরীক্ষা, কানের সমস্যায় কান পরীক্ষা, গলার সমস্যায় টনসিল পরীক্ষা , নাকের সমস্যায় নাকের ভিতর পরীক্ষা করে দেখা ইত্যাদি ইত্যাদি ।
এবার ঔষধ প্রয়োগের পর রোগীপর্যবেক্ষণ ও পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য কয়েকটি জ্ঞাতব্য তত্বের বিষয়ে আলোচনা ।
ক । সুদীর্ঘকাল বৃদ্ধি এবং পরে রোগীর নিশ্চিত অবনতি ।
এতে বোঝা যাবে যে, রোগীর দুরারোগ্যতা, যান্ত্রিক ক্ষয়ক্ষতির বা ঐ প্রকার অবস্থার বিষয় । বোঝা যাবে, বিচারবিবেচনা না করে, চিন্তা না করে, অনুসন্ধান না করে অতি গভীর ক্রিয়াশীল উচ্চশক্তির ঔষধ প্রয়োগ কি মারাত্মক ভুল করা হয়েছে । দুঃসাধ্য এবং ঐ প্রকার যান্ত্রিক ক্ষয়ক্ষতির সন্দেহযুক্ত রোগীর প্রথমেই উচ্চশক্তি ব্যবহার করা উচিত নয় । যেখানে প্রথমে ৩০ বা ২০০ শক্তির ঔষধ ব্যবহার করার পর পর্যবেক্ষণ করতে হবে রোগীর বৃদ্ধি হচ্ছে কিনা এবং সেই বৃদ্ধি খুব গভীর বা দির্ঘস্থায়ী কিনা । লক্ষণ সমষ্টি সংগ্রহকালে বিশেষ ভাবে অনুসন্ধান এবং পরীক্ষানিরীক্ষার দ্বারা চিকিৎসকের জানা উচিত রোগীর যান্ত্রিক পরিবর্তন ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা এবং তা কতখানি গুরুতর । যদি এ সমন্ধে সঠিক তথ্য না পাওয়া যায় অথবা তা সঠিক ভাবে নির্ধারণ করা না যায় তাহলে এই প্রকার সন্ধেহজনকক্ষেত্
রে প্রথমেই উচ্চশক্তির ঔষধ ব্যবহার করা ঠিক হবে না । এ অবস্থায় নিম্ন বা মধ্য শক্তি যথা ৩০ বা ২০০ থেকে আরম্ভ করে ক্রমশ এগিয়ে যাওয়া নিরাপদ ।
খ । সুদীর্ঘকাল বৃদ্ধি কিন্তু শেষে খুব ধীরে উন্নতি ।
রোগীর লক্ষণ সমষ্টি সংগ্রহ করে এবং ইতিহাস নিয়ে যেখানে দেখা যায় যে, রোগীর যান্ত্রিক কোন ক্ষতি হয়নি এবং ঐ অবস্থায় যাবার আগেই চিকিৎসার সুযোগ পাওয়া গেছে, সেখানে অতি উচ্চ শক্তির ঔষধ ব্যবহার করলে দেখা যে, বৃদ্ধিকাল সুদীর্ঘ এবং প্রবল হওয়া সত্বেও শেষে উপশম এসেছে । বৃদ্ধিটা হয়ত বা কয়েক সপ্তাহ থাকতে পারে, কিন্তু তার পরে দুর্বল দেহপ্রকৃতির প্রতিক্রিয়া আরম্ভ হয় এবং ধীর অথচ সুনিশ্চিতভাবে উন্নতি দেখা যায় । এর দ্বারা বোঝা যায়, রোগীর অবস্থা একেবারে দুঃসাধ্য পর্যায়ে যায়নি এবং ক্ষয়ক্ষতি দুরারোগ্যের পর্যায় বা অবস্থায় আসেনি , তবে একেবারে এর সীমান্তে পৌছেছে । আর এক প্রকার আছে, যাদের প্রথম উচ্চশক্তি প্রয়োগে দীর্ঘকাল বৃদ্ধি ঘটে, দুতিন মাস পরে ঐ বৃদ্ধিলক্ষণ কমে যায় ও আবার ঔষধ দেবার মত অবস্থা আসে । কিন্তু আবার যদি ঐ রকম উচ্চ শক্তি দেওয়া হয়, তাহলে আবার পূর্বের মতোই বৃদ্ধি ঘটবে । এ দেখে বেশ বোঝা যায় যে, রোগীর অবস্থা একেবারে সীমান্তে অর্থাৎ আরোগ্য না হবার অবস্থায় আসছে । এই সন্দেহ জনক অবস্থায় নিম্ন শক্তি থেকে চিকিৎসা আরম্ভ করাই শ্রেয়। যদি ভুলবশত ঔষধজ বৃদ্ধি এসে রোগীর ক্ষতি করতে পারে বলে মনে হয়, তাহলে ঐ ঔষধটির ক্রিয়ানাশক বা প্রতিষেধক একটি ঔষধও ঠিক করে রাখতে হয়, প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য । এক কথায় যদি দীর্ঘ বৃদ্ধির পর ক্রমশ উন্নতি আসতে থাকে, তাহলে আরগ্যের আশা করা যায় । কিন্তু যদি বরাবরই বৃদ্ধি চলতে থাকে, তাহলে জানতে হবে কোন যান্ত্রিক পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য ভাবে আরম্ভ হয়েছে ।
গ । ঔষধ প্রয়োগের পর ত্বরিত বা ক্ষণস্থায়ী প্রবল বৃদ্ধির পর রোগীর দ্রুত উন্নতি ।
এই প্রকার অবস্থায় বোঝা যায় যে, জীবনীশক্তি যথেষ্ট শক্তিশালী এবং এখানে কোন মুল্যবান যান্ত্রিক পরিবর্তন লক্ষিত হয়, তবে তা বাহ্যিক ও কোন অতীব গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রের নয় । এ রকম অবস্থায় বাইরের অঙ্গ প্রতঙ্গে যদি চর্মরোগ হয়, তবে তা কোন রুপ ক্ষতিকারক নয়, বরং শুভলক্ষণ বলে ধরে নেওয়া যায় । কখনও স্থানীয় লক্ষণের চিকিৎসায় এগুলিকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা উচিৎ নয় । যকৃৎ , বৃক্ক, হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, মস্তিস্ক প্রভুতি মুল্যবান যন্ত্রের পরিবর্তন নিতান্ত অশুভ পরিণতির ইঙ্গিতবহ । দেহের মুল্যবান যন্ত্রের ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবর্তন চিকিৎসক জানতে পারেন একমাত্র লক্ষণ পর্যবেক্ষণের দ্বারা ।
ঘ । কোন প্রকারের বৃদ্ধিই নেই ।
এমন ক্ষেত্রও পাওয়া যায়, যেখানে ঔষধ প্রয়োগের পর কোন বৃদ্ধি লক্ষণই আসে না অথচ রোগী আরোগ্য হয়। এতে এ ধারণা হয় যে, রোগীর কোন যান্ত্রিক ক্ষয়ক্ষতি নেই বা তা হবার সম্ভাবনাও নেই এবং ঔষধ নির্বাচন বিশেষ করে শক্তি ও মাত্রা নির্বাচন খুবই উপযুক্ত হয়েছে । এ বিষয়টি জানা অবশ্য প্রয়োজন যে, শরীরের কলাসমুহের উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হলে দেহপ্রকৃতির সুসমঞ্জস পরিচালনার ক্ষেত্রে জীবনীশক্তি যে বাধাপ্রাপ্ত হয়, তা সর্বপ্রকার নিখুত যন্ত্রপাতির সাহায্যেও ধরা যায় না । এ অবস্থায় নানা প্রকার কষ্টের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়, কিন্তু কোনপ্রকার বৃদ্ধিলক্ষণ না এসেই আরোগ্য হতে পারে । যখন কোন বৃদ্ধি লক্ষণ না আসে তখন আমরা বুঝতে পারি যে, ঔষধ নির্বাচন উপযুক্ত হয়েছে এবং শক্তি ও মাত্রা নির্বাচনও সদৃশ স্তরেই হয়েছে । কিন্তু সব সময় এরূপ নাও হতে পারে । ঔষধ ঠিক উপযুক্ত শক্তিতে ব্যবহার না করে যদি খুব নিম্ন বা খুব উচ্চশক্তিতে ব্যবহার করা হয় এবং তার মাত্রা যদি বৃহৎ হয়, তাহলে লক্ষণ সমূহের বৃদ্ধি আসে । বৃদ্ধিহীন আরোগ্য, সদৃশ ঔষধ, সদৃশ শক্তি ও ক্ষুদ্রমাত্রা প্রয়োগের ফলে এরূপ হয়েছে বলে বোঝা যায় । রোগীও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে আরোগ্যে উপনীত হয় । অচিররোগের চিকিৎসায় এইপ্রকার আরোগ্য শ্রেষ্ঠ, যদিও চিকিৎসক ঔষধপ্রয়োগের পর প্রথম দিকে সামান্য বৃদ্ধি দেখলে সন্তুষ্ট হতে পারেন ।
ঙ । প্রথমে আসে উপশম পরে বৃদ্ধি ।
রোগী আসার পর চিকিৎসক রোগী সম্বন্ধে সুদীর্ঘ সময় অনুসন্ধান ও তাকে পর্যবেক্ষণের পর ঔষধ দিলেন । দুচার দিন পরে রোগী এসে বললো যে ঔষধ খাওয়ার পরমুহূর্ত থেকেই সে ভালো বোধ করছে । শুনে মনে হবে, যেন ঔষধটি খুব দ্রুত এবং সঠিক কাজ আরম্ভ করে দিয়েছে । কিন্তু না, অপেক্ষা করুন । হয়ত এক সপ্তাহ পরেই রোগী এসে জানাবে, তার সমস্ত লক্ষণই বৃদ্ধি পেয়েছে, এমন কি প্রথম যখন রোগী এসেছিল তার চেয়েও বেশী । এ রকম অনেক রোগী চিকিৎসাক্ষেত্রে আসতে পারে । কিন্তু এই রোগীদের অবস্থা প্রতিকূলতাপূর্ণ এ ছাড়া চিকিৎসক আর কিই বা বলতে পারেন । অবশ্য চিকিৎসক রোগীকে আবার পরীক্ষা করার পর এবং আগে দেওয়া ঔষধের সঙ্গে লক্ষণ সমষ্টির তুলনামূলক বিচার বিবেচনা করে রোগ লক্ষণের সঙ্গে ঔষধটির কোন সমন্ধ ছিল কিনা তা দেখার পর বলতে পারেন যে পূর্ব নির্বাচিত ঔষধটি ভাসাভাসা ভাবে কাজ করেছে অথবা তা ঠিক নির্বাচিত হলেও রোগী আরোগ্য সাধ্য নয় । আরোগ্য সাধ্য রোগী ক্ষেত্রে উচ্চ বা উচ্চতম শক্তির ঔষধ দেওয়ার পর তা সুদীর্ঘকাল ক্রিয়াশীল থাকে । ঔষধ প্রয়োগের পর রোগীর মধ্যে এমনই এক শৃঙ্খলা পূর্ণ অবস্থা প্রতিষ্টিত হয় যে শীঘ্র আর কোন ঔষধের প্রয়োজন হয় না । এই শৃঙ্খলা পূর্ণ অবস্থা কখনও কখনও কয়েকমাসও চলতে থাকে । আবার হয়ত কোন রোগীকে লক্ষণ অনুযায়ী ঔষধের সি এম শক্তি প্রয়োগের পর প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহের শেষে রোগী এসে বলল যে ষে ঔষধ খেয়ে ভালো আছে। কিন্তু চতুর্থ সপ্তাহের শেষের দিকে রোগী ফিরে এসে বলল যে তার অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে, স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়েছে । চিকিৎসক চিন্তায় পরে গেলেন । তিনি বিশেষভাবে অনুসন্ধান করে দেখলেন যে, রোগী ঔষধ ক্রিয়া নষ্ট হয় এমন কিছু করেছেন বা খেয়েছেন অথবা ঔষধের ক্রিয়া নষ্টকারী কোনপ্রকার ভেষজের প্রভাবে পড়েছেন কিনা । অনুসন্ধানে জানলেন যে ষে রকম কিছুই হয়নি । বোঝা গেল, রোগীর অবস্থা অনুকুল নয় । একটি সুনির্বাচিত ঔষধ উচ্চশক্তিতে প্রয়োগের পর মাসাধিককাল ক্রিয়াশীল থাকা উচিৎ । কিন্তু ঔষধের ক্রিয়া নষ্টকারী কিছু ব্যবহার না করা সত্বেও সেই ঔষধের ক্রিয়া যদি দুতিন সপ্তাহে শেষ হয়ে যায় তাহলে সে রোগীর আরোগ্য বিষয়ে সন্দেহ আসা স্বাভাবিক ।
চ । স্বল্পস্থায়ী উপশম
একটি ধাতুগত ঔষধ দেওয়ার পর যতদিন তার কাজ করার কথা ততদিন করে না । আমরা গ নং তত্বে দেখেছি ত্বরিত বা ক্ষণস্থায়ী বৃদ্ধির পর দ্রুত উন্নতি । অচিররোগের ক্ষেত্রে মস্তিস্কের প্রদাহে ঔষধ প্রয়োগের পর দ্রুত উপশম দেখা এবং পূর্ণ প্রয়োগের প্রয়োজন হয় । এই পূর্ণ প্রয়োগের শেষে দেখা যায় ঔষধের ক্রিয়া মাত্র আধঘণ্টা থাকছে, এতে এই ধারণা করা যায় যে, রোগ আর রোগাবস্থা ও রোগশক্তি প্রচণ্ড রকমের বলেই এরূপ স্বল্পস্থায়ী উপশম হয় । কলেরা জীবাণুঘটিত আমাশয়, মেনিনজাইটিস, কৈশিকা ব্রঙ্কাইটিস প্রভুতি প্রচণ্ড শক্তিশালী ও আশু প্রাণঘাতী ব্যাধিসমুহ জীবনীশক্তিকে এতই প্রচণ্ডভাবে আক্রমণ ও পর্যুদস্ত করে ফেলে যে, এ অবস্থায় সুনির্বাচিত হমিওপ্যাথিক ঔষধের ক্রিয়া জীবনীশক্তিকে প্রভাবিত ও উজ্জীবিত করে বটে, কিন্তু প্রথমাবস্থায় রোগ শক্তির প্রচণ্ডতার জন্য ঔষধের ক্রিয়া স্থায়ী হতে পারে না । তাই এ রকম প্রচণ্ডতার প্রথমাবস্থায় আধ ঘণ্টা অন্তর ( কোন সময় ১৫ মি বা তার কম সময় অন্তর ) ঔষধ খুব ক্ষুদ্র মাত্রায় জলের সঙ্গে মিশিয়ে দেবার প্রয়োজন হয় । এ অবস্থায় একটা বিরাট যুদ্ধ চলে । ক্রমশ যখন রোগ শক্তি নিস্তেজ হয়ে আসে তখন ঔষধের প্রয়োগ সময় আরও বিলম্বিত করা যায় । যে উপশম ধীরে ধীরে আসে এবং ঔষধ দেওয়ার দুএক ঘণ্টা পরে আসে, তা হলো উৎকৃষ্ট প্রকারের উপশম-আরোগ্যকারী স্থায়ী উপশম । অচির রোগে অল্প স্থায়ী উপশমের দ্বারা বোঝা যায় যে, শারীরিক যন্ত্রসমুহের ক্ষয়ক্ষতি বা পরিবর্তন হচ্ছে অথবা আরম্ভ হয়ে এক বিপদ জনক অবস্থায় পৌছাছে । এসব পরিবর্তন রোগীর মধ্যে থাকলেও সকলে তা নির্ণয় করতে পারে না । যে সকল চিকিৎসক সুনিপণভাবে পর্যবেক্ষণ করতে শিখেছেন এবং এসব বিষয়ে আগ্রহ সহকারে পড়াশুনা করেছেন, তারা কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় লক্ষণ সমূহের প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে পারেন, পারেন রোগীর ভবিষ্যৎ বলে দিতে, যা আর কারর পক্ষেই সম্ভব নয় । শিক্ষার্থী চিকিৎসক কে এই ভাবে এবং এই পদ্ধতিতেই জ্ঞান অর্জন করতে হবে ।
ছ । উপশমের সার্বিক লক্ষণ আছে তথাপি রোগীর প্রকৃত আরোগ্য মুখি গতি অনুপস্থিত ।
এমন অনেক রোগী পাওয়া যায় যাদের পুরাতন অবস্থায় এবং যান্ত্রিক পরিবর্তনে যে ঔষধই দেওয়া হক না কেন, সাময়িক উপশম ছাড়া স্থায়ী আরোগ্যদান সম্ভব হয় না । যে সকল রোগীর একটি মাত্র বৃক্ক কাজ করছে অথবা যা কোন স্থানের তন্তুময় গঠন গত পরিবর্তন ( Fibrinous Structural Change ) কিংবা গুটিকা ( Tubercle ) কোষবদ্ধ হয়ে গেছে ও ফুসফুসের কর্ম ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে, তাদের চিকিৎসায় প্রত্যেক মাত্রায় যথেষ্ট উপশম দেখা গেলেও আরোগ্য একটি নির্দিষ্ট সীমায় আবদ্ধ হয়ে থাকে । এই সীমানার গণ্ডি ছাড়িয়ে এনে তাকে আর ভালো করা সম্ভব নয় । আবার অনেক হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ব্যবহার হয়েছে এবং প্রত্যেকটি ঔষধ পূর্ণ ক্রিয়াকাল অনুযায়ী উপশম দিয়েছে তা সত্বেও রোগীর উন্নতি একই স্থানে আবদ্ধ হয়ে আছে বা অনুকূলতার সঙ্গে কাজ করছে, তবু রোগী আরোগ্য হচ্ছে না । হ্যাঁ এ রোগী কখনই আরোগ্য হবে না, একে প্রকৃত আরোগ্য করা যাবে না । এসব রোগীকে অস্থায়ী উপশম দেওয়া ছাড়া উপায় নাই । তবে হোমিওপ্যাথিই এ ক্ষেত্রে এক মাত্র স্রেষ্ট উপশমদায়ক চিকিৎসা । এখানে একটা সাবধান বানি শিক্ষার্থী চিকিৎসকদের জানিয়ে রাখি, এ রোগ আরোগ্য হবে না, নিশ্চয় ভালো করবো ইত্যাদি প্রকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং এবং তা রোগীর আত্মীয় গনের কাছে দুম করে বলে দেওয়া অত্যন্ত বিপদ জনক । এ ধরনের স্থির
সিদ্ধান্তে আসার ক্ষমতা সুদীর্ঘ অধ্যবসায়, অনুশীলন, পর্যালোচনা, ধ্যান ও সাধনা দ্বারাই একমাত্র সম্ভব । রোগী এবং তার জীবনি শক্তির অবস্থা, ভেষজশক্তির ক্রিয়ার গতি, জীবনি শক্তি ও ভেষজ শক্তির মিলিত সমগ্র চরিত্র এবং আরোগ্যের ক্রিয়াধারা প্রভুতি হবে চিকিৎসকের একমাত্র ধ্যেয় বস্তু । তবেই যদি সম্ভব হয় ঐ রকম ভবিষ্যৎ বানি উচ্চারণের ক্ষমতা অর্জন ।
জ । কিছু রোগীর উপর উচ্চশক্তির ঔষধ প্রয়োগ মাত্র তাদের উপর সেই ঔষধের পরীক্ষণ আরম্ভ হয় ।
হিস্টিরিয়া, অতিমাত্রায় উত্তেজিত এবং অসহিষু রোগীকে বলা হয় সর্ববিষয়ের অসহনশীল । এ রকম অতি অসহিষু রোগী আরোগ্য করা খুবই কঠিন । উচ্চশক্তির ঔষধ দিলেই সেই ঔষধের পরীক্ষণ আরম্ভ হয়ে গেল । ঔষধের ক্রিয়ায় রোগী এমন অভিভুত হয়ে পড়ে যেন ঠিক রোগগ্রস্ত । ঔষধটির ক্রিয়ার আরম্ভ পূর্ণ প্রকাশ এবং বিলীন হয়ে যাওয়া অবস্থাটি বেশ বোঝা যায় । এসব রোগীকে ৩০ বা ২০০ শক্তির বেশী ঔষধ দিলেই ঝামেলা বেড়ে যায় । সত্যিই এরা বিরক্তিকর । এদের চিররোগে ৩০ বা ২০০ শক্তিতেই আরোগ্যের কাজ প্রায় সমাধা হয় এবং এদের চিররোগে ৩০, ২০০ বা বড় জোর ১০০০ শক্তির দ্বারা উপশম আনা যায় ।
ঝ । ঔষধ প্রয়োগের পর নতুন লক্ষণের আবির্ভাব ।
ঔষধ প্রয়োগের পর বহুসংখ্যক নতুন লক্ষণের আবির্ভাব হলে জানতে হবে ঔষধটির ব্যবস্থাপ্ত্র ঠিক হয়নি । অবশ্য এখন যে গুলিকে নতুন লক্ষণ বলে মনে হচ্ছে সেগুলি অনুসন্ধানে যদি জানা যায় যে, তা রোগীর পুরাতন লক্ষণ, যা রোগী আগে ঠিক করতে বা বুঝতে পারেনি বলে নতুন বলে ভুল করেছে, তাহলে এ কথা খাটে না । যত বেশী সংখ্যায় নতুন লক্ষণ আবির্ভূত হচ্ছে বলে সঠিকভাবে জানা যাবে ও অনুসন্ধানে সুনিশ্চিত হওয়া যাবে, ততই পূর্বের ব্যবস্থাপত্রের উপর সন্দেহ আসবে । এই নবাগত লক্ষণ সমূহ অন্তঃহিত হওয়ার পর রোগীর সেই পূর্বাবস্থাই বজায় থাকে, কোনরূপ উন্নতি পরিলক্ষিত হয় না । সুতরাং ঐ রকমের ব্যবস্থাপত্র সদৃশ বিধান সম্মত হয়নি বলে ধরে নিতে হবে ।
ঞ । পুরাতন লক্ষণের পুনরাবর্তন ।
ঔষধ প্রয়োগের পর যদি রোগীর পূর্বের চাপাপড়া লক্ষণ ( পুরাতন ) ধারাবাহিকভাবে ক্রমশ প্রকাশ হতে থাকে, তাহলে জানা যায় যে, রোগী আরোগ্য হবে এবং ঔষধটির সঠিক প্রয়োগ হয়েছে । মহামতি ডাঃ হেরিং আমাদের জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় রোগ আরোগ্যের তিনটি ধারা আবিষ্কার করে গেছেন এগুলি হল ঃ- ( ক ) ঔষধ প্রয়োগের পর লক্ষণ সমষ্টি ভিতর থেকে বাইরের দিকে ( খ ) উপর দিক থেকে নিচের দিকে গতিযুক্ত হয় ( ঘ ) লক্ষণ সমূহ বিলীন হতে থাকে শেষ থেকে শুরুর অর্থাৎ অন্তঃ থেকে আদির দিকে । এইভাবেই আরোগ্য আসতে থাকে । অর্থাৎ দশ বছর আগের, পাঁচ বছর আগের, দুবছর আগের, এক বছর আগের এবং বর্তমান যে সব রোগ লক্ষণ রয়েছে, এদের মধ্যে প্রথমেই বিলীন হতে থাকে বর্তমান লক্ষণ সমূহ । তারপর ফিরে আসবে এক বছর আগের লক্ষণ, এরপর দুবছর, তারপর পাঁচ বছর এবং সবশেষে দশ বছর আগের লক্ষণ সমূহ আসবে ও তা বিলীন হবে । যখন পূর্ণ বিলীন হয় তখন তাকে বলা যায় নির্মল আরোগ্য । এ হল আরোগ্যের নিদর্শক । পুরাতন লক্ষণ সমূহ ক্রমপর্যায়ে আসে এবং অন্তঃহিত হয় যে ঔষধ প্রয়োগের
দ্বারা, জানতে হবে সেটিই এখন পর্যন্ত উপযুক্ত ঔষধ । যতদিন পর্যন্ত এই আগমন ও অন্তঃহিত হওয়ার কাজটি বজায় থাকবে, ততদিন পর্যন্ত সেই ঔষধটির ক্রিয়ার উপর নির্ভর করে থাকতে হবে এবং জানতে হবে জীবনীশক্তি ঐ ঔষধের প্রভাবে এখনও যথেষ্ট ক্রিয়াশীল রয়েছে । যদি পুরাতন লক্ষণ সমূহ ফিরে আসে কিন্তু অন্তঃহিত না হয়, তাহলে ঐ ঔষধই পরবর্তী পুনঃপ্রয়োগের প্রয়োজন হয় । অবশ্যই শক্তি পরিবর্তন করতে হবে কিনা এবং কিরূপ পরিবর্তন করতে হবে, তা রোগীর অবস্থা ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভরশীল । এখানে জানিয়ে রাখি যে, রোগ লক্ষণের গতিটি যদি ডাঃ হেরিংয়ের আরোগ্যের ঐ তিনটি ধারা বা গতির বিপরীতমুখি হয়, তাহলে জানতে হবে যে, ঔষধ নির্বাচন ভুল হয়েছে অথবা রোগীর রোগ আপাতত যত হাল্কাই মনে হক না কেন তার অবস্থা জটিল ।
ট । ঔষধ প্রয়োগের পর লক্ষণ ক্ষতিকর বা দুরারোগ্য পথে যায় ।
চিকিৎসক যদি স্থানীয় লক্ষণের উপর নির্ভর করে ঔষধ প্রয়োগ করেন, অর্থাৎ যদি রোগীর মানসিক ও সার্বদৈহিক লক্ষণ সমূহকে অগ্রাধিকার না দিয়ে শুধু স্থানীয় লক্ষণের জন্যই ঔষধ নির্বাচন করেন, তবে ঐ স্থানীয় লক্ষণ সমূহ আরোগ্য তো হবেই না বরং অন্তঃমুখি হয়ে যাবে । যেমন > কোন রোগীর হাঁটু বা কব্জির বাত স্থানীয় লক্ষণের ঔষধ প্রয়োগের ফলে অন্তঃহিত ও স্থানান্তরিত হয়ে হ্রদপিণ্ড আক্রমণ করলো, অর্থাৎ লক্ষণ সমূহ বাহির থেকে অন্তঃমুখি গতি হল এবং দেহের একটি মূল্যবান বা গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রকে আক্রমণ করলো । এক্ষেত্রে ঔষধ প্রয়োগের পর যদি লক্ষণের গতি বাইরে থেকে ভিতরমুখি হয়, তাহলে জানতে হবে ঔষধ নির্বাচন ভুল হয়েছে । তথক্ষণাৎ সেই ঔষধের প্রতিষেধক ঔষধ দিতে হবে । বিশেষ করে যদি কোন বহিরঙ্গেও বাত ভিতরমুখি হয়ে হ্রদপিণ্ড আক্রমণ করে অথবা মেরুদণ্ডে কেন্দ্রীভূত হয়, তবে সেই ঔষধের ক্রিয়াকে সত্বর প্রতিষেধক দিয়ে দূর করতে না পারলে আক্রান্ত সেই স্থানের গঠনগত পরিবর্তন আরম্ভ হয়ে যাবে । যখন রোগ লক্ষণ কেন্দ্রস্থল থেকে বাইরে, মনোস্তর থেকে দেহস্তরে, হ্রদপিণ্ড ফুসফুস মস্তিষ্ক মেরুদণ্ড প্রভুতি থেকে স্থানান্তরিত হয়ে বাইরে অঙ্গ প্রত্যঙ্গে উপস্থিত হয় অথবা শরীরের প্রান্ত দেশে প্রকাশিত হয়, তখন জানা যায়, রোগীর পক্ষে এটি শুভকর এবং চিকিৎসাও সঠিক পথে চলেছে । চিকিৎসা চলাকালিন যে কোন প্রকার চর্মরোগ প্রকাশ পাওয়াও একটি শুভ লক্ষণ । শুধু বাইরের ও স্থানীয় লক্ষণ নিয়ে ঔষধ নির্বাচন খুবই বিপদ জনক । মোটকথা রোগী পর্যবেক্ষণের জন্য জীবনী শক্তি কি বস্তু সুস্থ অথবা অসুস্থ দেহে জীবনীশক্তির ভূমিকাই বা কি, রোগ কাকে বলে, রোগশক্তির প্রকৃত অর্থ কি ইত্যাদি প্রশ্ন সমন্ধে গভীর জ্ঞানসঞ্চয় করা আবশ্যক । সুস্থ দেহে হোমিওপ্যাথিক ঔষধের পরীক্ষণের সময়ে জীবনীশক্তির ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া কি রকম এবং রোগী ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগের পর জীবনী শক্তির ভুমিকা ইত্যাদি বিষয়ে যত বেশী জ্ঞান অর্জন করা যাবে, পর্যবেক্ষণ শক্তিও তত বেশী বেড়ে যাবে । বিশেষ করে যখন জীবনী শক্তিই অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও অস্বাভাবিকতার কথা নানা লক্ষণে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করে, তখন চিকিৎসকের এই জীবনীশক্তির সার্বিক বিষয়ে যত বেশী দখল হবে, যত বেশী জ্ঞান লাভ হবে, তিনি তত বেশী ভালো পর্যবেক্ষক হতে পারবেন, উৎকৃষ্ট ব্যবস্থাপক হতে পারবেন ।
প্রবন্ধ সংকলক
ডাঃ সাখাওয়াৎ হোসেন
দি বার্নেট হোমিও কেয়ার
খাঁন টাওয়ার দ্বিতীয় তলা
সরিষা হাটির মোড়, মেইন রোড, নওগাঁ